কোহিনূর আক্তার এর লেখা “খারাপ মা”

0
25

কোহিনূর আক্তার এর লেখা “খারাপ মা”

একটি রাস্তার পাশে একটি গাছের ছায়ায় বসে আছে, দেখতে বেশ ভদ্র এবং সুন্দরী মহিলা । হাতে একটি ব্যাগ চোখে চশমা ।
হঠাৎ আমাকে দেখে বলছে আপনি আমার পছন্দের
লেখিকা, আপনার লেখার আমি ভক্ত,,
আমি তখন অবাক হয়ে ঐ মহিলার দিকে তাকিয়ে ছিলাম , সে আমাকে বলছে লেখিকা আমাকে একটি
চিঠি লিখে দিবে ?
তার পর তার গভীর কথা গুলো বলতে লাগল : লেখিকা আমি খারাপ মা,
কি বলেন মা আবার খারাপ হয় ?
হয় লেখিকা হয়, মাও খারাপ হয় ,
বলেন ,
আমার স্বামী আমাকে রেখে হারিয়ে যায়
সে আর ফিরে আসে নাই ।
আমার কোলে ছোট্ট ফুটফুটে একটি বাবু ,নাম
রাজা ,আমি সেই রাজার মা ।
তাকে নিয়ে শুরু হয় আমার জীবনের যুদ্ধ ।
তার পর ?

বাবা রাজা,
তুই কোথায় চলে গেলি আর ফিরে এলি না বাবা,
বাবা আমি অসুস্থ রে , তোকে ছেড়ে আমি ভালো থাকতে পারি না , যদিও তুই আমাকে ছেড়ে ভালো থাকতে পারিস ।
বাবা আমাকে এতো বেশি ঘৃণা করিস তুই ?
বাবা আমার জীবনের জন্য আমি কি করেছি বলতে পারিস বাবা ?
তোকে নিয়ে কতো জায়গায় কাজ করতে গেছি
সবাই আমার এই শরীরের আঁচে পুরেছে ।
তোর খাবার যোগাতে দেহ বিক্রি করতে হয়েছে ।
তোর ঔষুধ যোগাতে ডাক্তারের ইশারা মেনে নিতে হয়েছে । তাতে কি আমার কষ্ট হয়নি বাবা ?

একটি মেয়ে মানুষ একা এই শ্রেষ্ঠ সমাজে চলতে গেলে মিথ্যে অনেক বদনাম সইতে হয়েছে ।
এক সময় আমার জীবনের জন্য তোর জীবনের জন্য একটি পুরুষকে খুব প্রয়োজন অনুভব করলাম ।
তখন নতুন করে বিয়ে করলাম ।
কিন্তু কিছুতেই তাকে তুই মেনে নিতে পারলি না ।
সে কাছে এলেই তুই চিৎকার দিতি ।
সে আমাকে বললো তোর ছেলেকে আমি মেরে ফেলবো
একদিন । একথা ওর মুখে শুনে আমার বুকের মানিককে নিয়ে পালিয়ে গেলাম অনেক দূরে ।

সেখানে ও আবার একা হলাম,
সেখানে একটি হাসপাতালে চাকুরি নিলাম ।
তার পর আমার রাজাকে স্কুলে ভর্তি করে দিলাম,
আর হাসপাতালে বড় বাবুর কথা না শুনলে আমার চাকুরি থাকবে না তাই তার বেডে শুতে হতো আমাকে ।
আমার ছেলের লেখাপড়ার অনেক খরচ ,সে খরচ বড় বাবু দিত।

হঠাৎ বড় বাবুর বৌ এসে আমাকে চাকুরি থেকে বের করে দিল । আবার অনেক কষ্টে পড়ে গেলাম ।

আমার রাজা , অনেক অসুস্থ হয়ে গেল , ডাঃ বলেছে অপারেশন করতে হবে ।সাত হাজার টাকা লাগবে ।
অনেক চেষ্টায় করেও পেলাম না । এর মধ্যে পাঁচ দিন কেটে গেল । আর আছে দু দিন কিছু ভেবে না পেয়ে
এক জন একটি ঠিকানা দিল সেখানে গেলাম বললাম
একটি কাজ দাও আমার ময়নার অসুস্থ তার জন্য
সব কাজ আমি করতে পারি ।

সে হেসে বললো তাকে তার মতো করে তৃপ্তি দিতে হবে,
তাহলে সে সব টাকাই দিবে । তার কাজ শেষ হলো কিন্তু
সে টাকা দিল না । টাকার কথা বলায় সে আমাকে ঘরে ঢুকে কাপড় খুলে আমাকে মেরে ঘর হতে বের করে দিল, বললো তুই তো বেশ্যা ,যা অন্য কোথাও টাকা পাবি । আর আছে একদিন আমার রাজার অপারেশন হবে । আমার যে আর কেউ নেই রে বাবা ,শুধু আমার রাজা আছে ওকে মানুষ করতে হবে । অনেক বড় মানুষ
করতে হবে ।
আমার রাজা যখন অনেক বড় মানুষ হবে তখন আমার
সব দুঃখ শেষ হবে । তখন আমি সত্যি সত্যিই রাজার মা হয়ে সুখের সিংহাসনে বসে থাকবো ।

খুব খুশি হলো মনটা তাই এক দল শকুনের ইশারা মেনে
নিলাম সারা রাত তারা আমার দেহটাকে লুটেপুটে খেলো । সকাল বেলা উঠে দাঁড়াতে পারছিনা ।
তবু টাকা পেলাম । মাঝে মাঝে আমার ডাক আসতো সেখান থেকে এটাই আমার নিয়তি বলে মেনে নিলাম ।
এক জন আমাকে বিয়ে করতে চাইলো আমি তোর জন্য রাজি হলাম না । তোমার চিকিৎসা হলো ।

ভালো কলেজে লেখা পড়া শেষ করে অনেক বড় মানুষ হলি বাবা, শুধু ঘৃণা করে ফেলে চলে গেলি । আমার আর খোঁজ ও নেস না রে বাবা, আমি কেমন আছি, তোর জানতে ইচ্ছে করে না আমি কেমন আছি । বাবা শুধু আমার খারাপ হওয়াটা দেখলি ,
কেনো হয়েছি তা কি ভাবলি না বাবা ,

আমার বাবা তুই , আমার রাজা তুই, আমার বুকের
মানিক তুই, তোকে দেখার জন্য এই পোড়ো চোখ
ঐ দূর রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে প্রতিদিন । যখন সন্ধ্যা হয়
তখন এই কষ্টে জমাট বাঁধা বুকের কাপড় ভিজে যার চোখের পানিতে । রাজা তো আজও এলো না ,
বাবা ও বাবা, বাবা রে আয় বাবা ফিরে আয় তোর ঘরে
তোর জন্য অনেক কষ্টে ঘর করেছি ,সুন্দর বিছানা করেছি রাজা বলে কথা , সে তো যেখানে সেখানে থাকতে পারে না ।
আমি চলে গেলাম বাবা অনেক দূরে , তুই চলে আয় তোর ঘরে ।
জানিস বাবা আজ আবার তোর কাছে খারাপ হতে মন চাইছে। আবার বিয়ে করতে মন চাইছে আমার, দেহের জন্য নয় রে বাবা আমার জীবনের জন্য, আমার এখন খুব ক্ষুধা পায় বাবা , অনেক অসুক শরীরে বাসা বেধেছে । একটি সাবানের খুব দরকার হয় ,
একা ঘরে আর একা থাকতে পারি না ।
বাবা ,শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখি শরীরের চামড়া গুলো ঝুলে গেছে, বিয়ে নয় এখন তো কেউ আমাকে
কাজেই নেই না ।

খুব ভালো থাকিস বাবা ,
অনেক ভালো থাকিস ,

LEAVE A REPLY