কুমারখালীতে পাখি পার্কের  শুভ উদ্বোধন করলেন ইউএনও  শাহীনুজ্জামান

0
43
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি ঃ কুমারখালীর বড়ুরিয়া পাখি পার্ক গতবছর পরিদর্শন শেষে ইউ্এনও মো. শাহীনুজ্জামান ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকারী বরাদ্দের মধ্য দিয়ে বড়ুরিয়া পাখি পার্ক এর কাজ শুরু হবে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান প্রকৃতিসুন্দর এই পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন।  সংষ্কৃতি নগরী কুমারখালী ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভাস্কর কিন্তু অপার সুন্দর প্রকৃতিঘেরা এই কুমারখালীর বিভিন্নাঞ্চলে প্রকৃতির সাথে নদীসংযোগ থাকায় এলাকাটি বিনোদন নগরী হিসেবে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে।
 তারই অংশ হিসেবে বড়ুরিযা পাখি পার্ক, হাসিমপুর পদ্মা পার্ক এবং কয়া গড়াই নদীর কোলঘেষে বাঘা যতীন পার্ক এর কাজও উদ্বোধন হবে আগামী দুই একদিনের মধ্যে। এদিকে গড়া্ই ইকো পার্ক, কুমারখালী পৌর শিশু পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে সংষ্কৃতির পাদপীঠ এই তীর্থভূমিতে।
উল্লেখ্য যে, শহর রক্ষা  বাঁধের অংশ হিসেবে হিসেবে ১৯৬৯ সালে অর্ধকিলোমিটার জুড়ে এই বাঁধটি নির্মিত হয়। আনুমানিক ৪০ বিঘা জমির উপর নির্মিত এই পাখি পার্কটিতে আরো হবে পিকনিক স্পট, দর্শনার্থীদের  বিরাম, বিশ্রাম ও আনন্দভোগের জন্য থাকবে সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা। স্থানীয় জনগণের সহোযাগিতারও আহবানন জানান ইউএনও।
প্রকৃতি সুন্দর তাকে সুন্দর রাখতে হলে সকলের সহযোগিতা দরকার। পাখিদের অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে সকল প্রকৃতিবান্ধব মানুষদের একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। তাছাড়া স্থানীয় মানুষরা নিজ নিজ উদ্যোগে ফুল ও ফলের গাছ রোপন করতে হবে।  বড়ুরিয়া বাঁধে যে পাখি পার্ক হবে এটি ছিল কল্পনাতীত। প্রায় অর্ধশত বছর এই বাঁধের বয়স। জঙ্গলে ছেয়ে ছিল-পোকামাকড়ের ঘরবসতি ছিল।
 একসময় এই বাঁধে অনেক মানুষ যাতায়াত করতো। পিকনিকও করতো। কিন্তু জঙ্গলঘেরা এই দুর্দম অঞ্চলটি মানুষের চলাফেরা ছিল  শাপদসঙ্কুল। কুমারখালীর কৃতিসন্ন্তান বড়ুরিয়ার মানুষ কবি, সাহিত্যিক ও ছড়াকার সোহেল আমিন বাবুর  আহবানে নাট্যকার লিটন  আব্বাস ও  সাংবাদিক দীপু মালিক বড়ুরিয়া বাঁধটি পরিদর্শন শেষে কুমারখালীর করিৎকর্মা ইউএনও মো. শাহীনুজ্জামানকে পরিদর্শন করবার আহবান জানালে তিনি গিয়ে খুব খুশি হন এবং বলেন, প্রকৃতিঘেরা এই বাঁধটি সরকারী সম্পত্তি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। অনেক জমি রয়েছে যেখানে বৃক্ষ রোপন  করে পরিবেশ ঠিক রাখবার পাশে মানুষের বিনোদনের জন্য পিকনিক স্পট গড়ে তোলা  যাবে সেইসাথে প্রকৃতির প্রাণ পাখি যা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্যরক্ষাকারী  তাদের অভয়ারণ্য গড়ে তোলা গেলে দর্শনার্থীরা বহুরকমের পাখি দেখতে পাবে, গড়াই নদীর অপরূপ রূপ উপভোগ করতে পারবে সাথে সৌণ্দর্যের দশদিগগন্তে নিজেকে মেলে  ধরতে পারবে। সুনীল আকাশেররও নান্দনিক রূপ রয়েছে। পিপাস মিটবে প্রকৃতিপ্রেমীদের, দর্শনার্থী সহ এলাকাবাসীরাও তাদের নিজভূমির পাশে গড়ে উঠা এই পার্কটি নিয়ে আনন্দিত হবে। এসবেরই ধারাবাহিকতায় বড়ুরিয়া পাখি পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হিসেবে ১০টি বেঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে । যারা পরিদর্শন করবেন এবং পার্কটিতে দুদণ্ড বসে জিরান দিবেন তাদের জন্য নির্মিতব্য এই বেঞ্চ।
ইচ্ছে করলে যে কেউ দুএকটি্ গাছ লাগাতে পারেন এবং বেঞ্চ বা ছাতা জাতীয় ছাউনী বানিয়ে বড়ুরিয় পার্কটিকে আরো নান্দনিক আরো সৌন্দর্যমুখর করে তুলতে পারেন। উদ্বোধন এর সময় উপস্থিত ছিলেন পাখির কবি জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত পাখি বিশেষজ্ঞ কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান এসআই সোহেল,  অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু সাহিত্যিক সোেহেল আমিন বাবু,  কলামিস্ট ও নাট্যকার  লিটন আব্বাস, পরিবেশবিদ গৌতম কুমার রায়, এলঙ্গী আচার্য্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোস্তফা শাহীন মাসুম, সাংবাদিক দীপু মালিক,  কুমারখালী ইতিহাস ঐতিহ্য সংষ্কৃতি পরিষদের সভাপতি এবিএম কাইসার রেজা পাসা, সহসভাপতি রাসেল  মোশাররফ চৌধুরী, কবি টগর চৌধুরী, সাংবাদিক লিপু খন্দকার, সাংবাদিক সাহেব আলী, ফটোগ্রাফার হাসান  ও ঠিকাদার মিজানুর রহমান  জুয়েল সহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

LEAVE A REPLY