এবার আসল লড়াইয়ের পালা

0
69

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক মাঠ এখন পুরোদমে প্রস্তুত। প্রধান দুই দলের জাতীয় সম্মেলনের পর শুরু হয়েছে চূড়ান্ত লড়াইয়ের হিসাব-নিকাশ।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যে লড়াই হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জটিল নির্বাচনী পদ্ধতিতে শুধু ব্যাপক জনসমর্থনই জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে রয়েছে জনসংখ্যা অনুযায়ী ইলেকটোরাল কলেজ। অঙ্গরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রার্থীর পক্ষে যাবে এসব ইলেকটোরাল ভোট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে হলে অন্যূন ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট দরকার পড়বে।

জনপ্রিয়তার জরিপে এই মুহূর্তে হিলারি ও ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। হতাশা ও ক্ষোভকে উসকে দিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তায় ট্রাম্প এগিয়ে আসছেন। তবে ইলেকটোরাল ভোটের হিসাবে রিপাবলিকান শিবিরে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে তিন বা চারটি অঙ্গরাজ্যে তাঁর জয় নিশ্চিত করতে হবে। হিলারির দিকে ঝুঁকে থাকা ওই সব অঙ্গরাজ্যই হয়ে উঠবে দুই প্রার্থীর নির্বাচনী যুদ্ধক্ষেত্র।

ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের এখনো মনস্থির না করা কয়েক লাখ ভোটারকে লক্ষ্য করে চলবে নির্বাচনী লড়াই।

ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে হিলারির ভিত মজবুত।

১৯৮৮ সালের পর পেনসিলভানিয়ায় কোনো রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জয়লাভ করতে পারেননি।

ভার্জিনিয়ায় রিপাবলিকান পার্টির সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ব্যাপক ভোট পেয়েছিলেন। সেখানে রিপাবলিকান পার্টির শক্ত অবস্থানের ইতিহাস থাকলেও এবারে ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। এই অঙ্গরাজ্যে শিক্ষিত শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ্য নয়। হিলারির রানিংমেট সিনেটর টিম কেইন ভার্জিনিয়াতে প্রভাব রাখবেন।

জনমত জরিপে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে হিলারির এগিয়ে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রিপাবলিকান পার্টির দিকে ঝুঁকে থাকা নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্য নিয়েও দুশ্চিন্তা আছে। এই অঙ্গরাজ্যের ব্যাপক কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার এবং উদারনৈতিক শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ট্রাম্পের কোনো জনপ্রিয়তা নেই।

ট্রাম্পকে নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে এখন আর কোনো প্রকাশ্য বিরোধিতা নেই। তারপরও উদারনৈতিক রিপাবলিকানদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে কোনো উৎসাহ নেই। ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য এখন এই তিন-চারটি অঙ্গরাজ্যে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। ট্রাম্প ও তাঁর রানিংমেট মাইক পেন্স এসব অঙ্গরাজ্য চষে বেড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী তহবিলের অধিকাংশ এসব অঙ্গরাজ্যে ব্যয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ জন বারবেন্ডার বলেছেন, ট্রাম্পের পক্ষে পেনসিলভানিয়ায় জয় সম্ভব।

পেনসিলভানিয়ায় জয়ের লক্ষ্যে উসকানিমূলক প্রচার-প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতিও চলছে।

ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের টেরি ম্যাকাউলিফি বলেছেন, তাঁর অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালিয়ে ট্রাম্পের শিবিরকে ধরাশায়ী করা হবে। শুধু ভার্জিনিয়া নয়, ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যেও হিলারি জয়ী হবেন বলে তাঁর মত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১৯৯২ সালের পর থেকে ডেমোক্র্যাটরা ১৮টি অঙ্গরাজ্যে নিশ্চিত জয় পেয়ে আসছেন। নির্বাচনী ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ডেমোক্র্যাটদের ধারণা, তাঁদের ২৪২টি ইলেকটোরাল ভোটের নিশ্চিত ভিত্তি রয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শুরুতেই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটদের বেশ কিছু অঙ্গরাজ্য তারা তছনছ করতে সক্ষম।

শ্রমজীবী ও বেকারত্ববহুল ডেমোক্র্যাট–প্রধান অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক ও ম্যাসাচুসেটসকে হিসাবে ধরা হচ্ছে ট্রাম্পশিবির থেকে। মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যেও ট্রাম্প জয়ী হবেন বলে আশা তাঁর কৌশলবিদদের।

হিলারির প্রচারবিশারদেরা বলছেন, সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ইতিহাস তাঁদের পক্ষে। মিশিগানে নির্বাচনী প্রচারণায় একপর্যায়ে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরই জয়ী হয়েছিলেন।

মিশিগান ও উইসকনসিনের মতো অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী হিসাব শেষ মুহূর্তে পাল্টে যাওয়ার ইতিহাস আছে বলে মনে করেন ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ জোয়েল বেনেন্সন।

হম্বিতম্বি করে এ পর্যন্ত নানা চমক দেখানো রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের আসল প্রচারণা দেখা যাবে এখন। কতটা বেপরোয়া আর কতটা বেফাঁস কথা বলে তিনি মাঠ গরম করবেন, তা দেখার অপেক্ষায় অনেকে।

হিলারির রাজনৈতিক অবস্থান এমনিতেই মজবুত। আমেরিকার ব্যয়বহুল নির্বাচনী ব্যবস্থায় হিলারির তহবিলের স্বাস্থ্যও হৃষ্টপুষ্ট।

গত জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী, হিলারির প্রচারণা তহবিলে রয়েছে ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ট্রাম্পের তহবিলে রয়েছে তার অর্ধেকেরও কম—২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আমেরিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে মাঠ গরমের নির্বাচন। দলীয় বাছাইপর্বে মহড়া দেখা গেছে। পাল্টাপাল্টি আক্রমণের আসল খেল এখন শুরু হবে।

LEAVE A REPLY