মেয়র আত্মগোপনে, কাজে গতি নেই

0
76

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সব কর্মচারী গত ডিসেম্বর মাসের বেতন এখনো পাননি। এদিকে পেট্রলবোমা হামলা মামলার আসামি হওয়ায় মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে সিটি করপোরেশনে বসতে পারছেন না। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। কাজকর্ম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বরং নগরের শালবাগান মার্কেট, নওদাপাড়া মার্কেট, ভদ্রা মার্কেট, লক্ষ্মীপুর ক্লিনিক, বর্ণালী সিনেমা হলের পেছনের ট্রেনিং সেন্টার, আরডিএ মার্কেটের পাশে দোকানঘর নির্মাণকাজগুলো দরপত্র হওয়ার পরও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া সিটি সেন্টারের নির্মাণকাজ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেমে থাকার পাশাপাশি বর্তমানে রাজস্ব আদায়েও গতি কমে গেছে। রাজস্ব আয় থেকেই কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। কর্মচারীরা জানান, গত মেয়রের সময়ে মাসের শুরুর দিকেই তাঁরা বেতন পেয়েছেন। এখন আর সেটা হচ্ছে না।
বর্তমানে সিটি করপোরেশনে নিয়মিত ৪৮২ জন ও মাস্টাররোলের ২ হাজার ১৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নিয়মিতদের ডিসেম্বর মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে জানুয়ারির ১০-১২ তারিখের দিকে। আর মাস্টাররোলের কর্মচারীদের বেতন দেওয়া শুরু করা হয়েছে ১২ জানুয়ারির পর থেকে। ধাপে ধাপে অল্প অল্প করে বেতন দেওয়া হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবদুর রশীদ জানান, গতকাল সোমবারও একটি শাখার কিছু কর্মচারীর বেতন দেওয়া হয়েছে। এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় হওয়া সাপেক্ষে এই কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে।
করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, মেয়র হচ্ছেন করপোরেশনের অভিভাবক। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁকে মামলা-মোকদ্দমা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। হাজত খাটতে হচ্ছে। এতে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের মধ্যে কোনো প্রাণচাঞ্চল্য নেই।
গতকাল সিটি করপোরেশনে গিয়ে দেখা যায়, সবার মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী বলেন, সিটি করপোরেশন চলছে। তবে তাঁরা একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, মেয়র না থাকলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। আরেক সপ্তাহ তাঁকে বাইরে থাকতে হলে সিটি করপোরেশনে গত বছরের মতো আবার অচলাবস্থা দেখা দেবে।
বিএনপিসহ বিরোধী জোটের টানা অবরোধের মধ্যে গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মতিহার থানার কাপাশিয়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারার মধ্যে ঢাকাগামী গাড়িবহরে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় মেয়রকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের কাদিরগঞ্জ ট্রাকের বহরে হামলা, ১৯ জানুয়ারি গভীর রাতে ভদ্রা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায়ও মেয়রকে আসামি করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা জানান, নতুন করে মামলা হওয়ার পর মেয়র প্রকাশ্যে আর সিটি করপোরেশনে আসছেন না। গত বছর জানুয়ারি মাসেও মামলার কারণে তাঁকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। সে সময় সিটি করপোরেশনে অচলাবস্থা দেখা দেয়। প্রায় ২০টি স্থায়ী কমিটির সভা বন্ধ রয়ে যায়। কর্মচারীদের বেতন দেওয়া যায়নি। সেবামূলক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে।
গতকাল সিটি করপোরেশনে গিয়ে মেয়রকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এর আগে ১ জানুয়ারি তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, বর্তমানে তাঁর নামে ১৬টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি মেয়র হওয়ার পরও এক মাস হাজত খেটেছেন। বর্তমানে তিনি সব মামলায় জামিনে রয়েছেন। মেয়রের দাবি সব মামলাই রাজনৈতিক হয়রানিমূলক। তিনি বলেন, সরকার আর্থিক বরাদ্দ না দেওয়ার কারণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলছে না।

LEAVE A REPLY