রেজা আহাম্মেদ জয় : তিন দিন ব্যাপী কু্ষ্টিয়া শিলাইদহ রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মদিন অনুষ্ঠান রবিন্দ্র সংঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠ ভাবে শেষ হয়েছে। তিন দিনের অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। দুর দুরান্ত থেকে রবিন্দ্র সংঙ্গীত শিল্পী ও ভক্তরা এসেছিলো। অনুষ্ঠানে সার্বিক ভাবে সহযোগীতা করে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়, আয়োজন করেন কু্ষ্টিয়া জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান তিন দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে, সেই সাথে সহযোগী ছিলেন অন্যান্য কর্মকর্তা। চারিদিকে যেমন ছিলো সাধারন জনতা তেমনি ছিলো পুলিশের নিরাপত্তা। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ। খোকসার বিশিষ্ট রবিন্দ্র গবেষক রবিন্দ্রনাথ বিশ্বাস, শিলাইদহ রবিন্দ্র সংসদ পরিচালক এস এম আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন কনক চৌধুরী, নজরুল ইসলাম ও তনিমা আলম। আলোচকরা বলেন, ২৫শে বৈশাখ, বাংলা সাহিত্যের অনন্য প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। ১৫৭ বছর আগে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের (৭ মে, ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ক্ষণজন্মা এই মানুষটির জন্ম হয়। তাঁর লেখনীতে বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা পরিপুষ্ট হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতেই মূলত সার্থক বাংলা ছোটগল্পের সূত্রপাত। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও বিহারীলালের লেখনীর মাধ্যমে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার সূচনা হলেও রবীন্দ্রনাথের হাতেই তা পূর্ণতা পায়। একইভাবে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতে জন্ম নেওয়া বাংলা গদ্যকেও তিনি চূড়াস্পর্শী সাফল্য দান করেন।
রবীন্দ্রনাথ একাধারে কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, সংগীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক ও চিত্রশিল্পী। সৃষ্টিশীলতার সমান্তরালে তিনি ধর্ম, দর্শন, রাজনীতি ও সমাজভাবনা সমানভাবেই চালিয়ে গেছেন। বিশ্বভারতী তাঁর বিপুল কর্মকাণ্ডের একটি প্রধান কীর্তি। গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী তিনিই প্রথম এশীয় ও একমাত্র বাঙালি লেখক। রবীন্দ্রসাহিত্য, বিশেষত রবীন্দ্রসংগীত বাঙালির কাছে আলোকবর্তিকা হয়ে দেখা দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর তাঁর গানই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও বাঙালির অহংকার। অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম দিয়ে তিনি বিস্তৃত করেছেন বাংলা সাহিত্যের পরিসর। অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে, জীবন-সংগ্রামের প্রতিটি ক্রান্তিকালে আমাদের পাশে থাকেন রবীন্দ্রনাথ। ১৮৯০ সালে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে পারিবারিক জমিদারির তত্ত্বাবধান শুরু করেন। বর্তমানে এই অঞ্চলটি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত। ১৮৯৮ সালে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরাও চলে আসেন শিলাইদহে। “জমিদার বাবু” নামে পরিচিত পান রবীন্দ্রনাথ। ঐ সময় পারিবারিক বিলাসবহুল ঢাকাই বজরা পদ্মা-য় চড়ে সমগ্র জমিদারি তদারকি করে বেড়ান। প্রজাবর্গের মধ্যে খাজনা আদায় (মূলত প্রতীকী) ও তাঁদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে তাঁদের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করেন রবীন্দ্রনাথ। এই সৌজন্যে গ্রামবাসীরাও তাঁর সম্মানে ভোজসভার আয়োজন করতেন। ১৮৯১ সাল থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে তিনি ঊনষাটটি ছোটোগল্প লিখেছিলেন। এই সব গল্পের উপাদান তিনি সংগ্রহ করেছিলেন সাধারণ বাঙালির জীবনের নানা শ্লেষাত্মক উপাদান ও আবেগ থেকে। সোনার তরী (১৮৯৪), চিত্রা (১৮৯৬) ও কথা ও কাহিনী কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।

















