দৌলতপুরে পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং: জনজীবন অতিষ্ঠ

0
2445

রনি অাহমেদঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং কারনে উপজেলা বাসীর জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ঘণ্টাই এলাকায় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এছাড়া মাত্রা ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে ইলেট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে অফিস গুলোর স্বাভাবিক কর্মধারা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করছেন। জানা যায় কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যু কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ সরবরাহের কোন
নিয়মনীতি নেয়। দৈনিক ১৫/২০ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে, সন্ধ্যা হলে বিদ্যুৎ যেন পালিয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমের দিনে বিদ্যুতের প্রয়োজন সব সময় বেশি। এ কথা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের কারো অজানা নয়। এরপরও কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সরবরাহের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। বিদ্যুতের আসা যাওয়ার খেলায় গ্রাহকগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়মনীতি না থাকায় গ্রাহকদের অতিরিক্ত খরচের বোঝা বহন করতে হয়। একদিকে বিদ্যুৎবিল ,অন্যদিকে মোমবাতি বা কেরোসিন বাতি জ্বালাতে গিয়ে দ্বিমুখী খরচ করতে হয় গ্রাহকদের। তাছাড়া এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনেরেটরের ভাল্ব ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের স্থান বিশেষ করে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুই জায়গায় বাড়তি খরচ করতে হয়। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এনার্জি ভাল্ব ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে নতুন নতুন বাড়ি-ঘর,
বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ভাল্ব ব্যবহারের কারণে বাড়তি চাহিদা তেমন নেই।দৌলতপুরে ঘনঘন বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ও আসা যাওয়ার খেলার কারণে গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক ভাল্ব, ফ্যান, টিভি, ফ্রিজসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক রঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোডশেডিং হলেও তা আর কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। ঘনঘন বিদ্যুতের যাওয়া আসা ছাড়াও কোন কোন সময় একবার বিদ্যুৎ গেলে ৪/৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসার কোন খবর থাকে না। ঘরেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সার্বক্ষণিক না থাকার কারণে এবং লোডশেডিংয়ের সময় সীমা না থাকায় বয়স্কদের কথা বাদ দিলেও শিশু ও রোগীদের কষ্টের
সীমা থাকে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা পরিবারের লোকজনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অনেক সময় মোটরের মাধ্যমে তোলা পানির উপর যেসব পরিবার নির্ভর তাদেরও সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিদ্যুতের যন্ত্রণা থেকে রেহায় পেতে অনেকে আইপিএস স্থাপন করেছে সেখানে ও লোডশেডিং এর কারণে পর্যাপ্ত চার্জ না হওয়ায় তাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এলাকার কর্মরত সংবাদকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। কম্পিউটার দোকানের
সাইবার ক্যাফ গুলোতে বিদ্যুতের অভাবে তাদের ব্যবসা লাটে উঠার এমন অবস্থায় বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং এলাকাবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। অনেক সময় বিদ্যুতের লাইনের ত্রুটি, ট্রান্সফর্মার বিকল ও যন্ত্রাংশ নষ্টের অজুহাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে না। কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে চরম গাফেলতির কথা জন মুখে প্রচারিত। কোন স্থানে বিদ্যুৎ না থাকলে ট্রান্সফর্মার নষ্ট অথবা বিদ্যুৎ সংযোগের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ না থাকলে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ কেন্দ্রে ফোনে যোগাযোগ করে অভিযোগ প্রদান করতে চাইলেও কর্তৃপক্ষের ফোন রাতদিন ২৪ ঘণ্টা যেন ব্যস্তই থাকে। আবার কোন সময় রিং পরলেও তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এক শিক্ষক বলেন, ঘনঘন লোডশেডিং এর ফলে
জনগণের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে যা হিসাবের বাইরে। স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের এখন পরীক্ষা চলছে। বারবার লোডশেডিং এর কারণে তাদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিজানিয়েছে ভুক্তভোগী মহল।

LEAVE A REPLY