মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধিঃ বেকার সমস্যা বাংলাদেশে বর্তমানে চ্যালেন্জিং সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।বেকারত্বের এই অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভের আশায় শিক্ষিত,অল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত অনেক যুবক-যুবতী নিজেই নিজের ও অন্যের কর্মসংস্থান করেছে। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজের ও অন্যের কর্মসংস্থান হিসেবে অনেকে বেঁছে নিয়েছে সোনালী ও পোল্ট্রি মুরগীর খামার আবার কেউ বা হ্যাচারী।কিন্তু এতেও তেমন সুখ নেই।দিনের পর দিন,মাসের পর মাস লোকসান যাচ্ছে খামারীদের। বিগত ৩-৪ মাসে লাভের মুখই যেন দেখা যায় না,ফলে প্রতি মাসে ৩-৪ লক্ষ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারীদের,এমনটায় জানান কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলাধীন পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুরের মাস্টার এন্টার প্রাইজ ও ফাতেমা পোল্ট্রি এ্যান্ড সোনালী হ্যাচারীর মালিক মোঃ আমির হোসেন জুয়েল। রবিবার সকালে খামার পরিদর্শন কালে তিনি এসব কথা জানান। তিনি বলেন হ্যাচারীতে সপ্তাহে দুই দিন ২০-২২হাজার পিচ বাচ্চা উৎপাদন করা হয়।এতে প্রতি পিচে খরচ হয় প্রায় ১৫ টাকা আর বর্তমান বাজার দর ৮-১০ টাকা মুল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে।এতে প্রতি পিচ বাচ্চায় ৫-৭ টাকা লোকসান হচ্ছে। তিনি বলেন,সোনালী মুরগী খামারে ৪০ হাজার মুরগী উৎপাদন করা হয়।প্রতি পিচ সোনালী মুরগী বিক্রয়ের আগ পর্যন্ত উৎপাদন ব্যয় ১১০-১১৫ টাকা কিন্তু যার বিক্রয় মুল্য বর্তমানে ১০৩-১০৫ টাকা।জুয়েল বলেন তার খামারে প্রতিদিন ৫ হাজার ডিম উৎপাদিত হয়।এতে প্রতি পিচে ব্যয় হয় ৫-৬ টাকা কিন্তু বিক্রয় করা হচ্ছে ৪.৫-৫ টাকা।তিনি বলেন সব মিলে প্রতিমাসে ৩-৪ লক্ষ টাকা লোকসান হচ্ছে।এভাবে চলতে থাকলে সব হাড়িয়ে একদিন পথে বসে যাব।তিনি বলেন ইতিমধ্যে অনেক ছোট ছোট খামারী নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে।মুরগীর বাজার যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে এই মুরগী শিল্পটা একদিন হাড়িয়ে যাবে এদেশ থেকে। দেশে যখন সমস্ত দ্রব্য মুল্যের দাম উর্ধমুখী তখন মুরগী ব্যবসায়ীদের এম লোকসান কেন?এমন প্রশ্নের জবাবে জুয়েল বলেন,উৎপাদিত মুরগী দেশের বাইরে রপ্তানি না হওয়া,বাইরে থেকে মুরগী আমদানি,সংরক্ষনের অনুপোযুগী অথবা চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বৃদ্ধি এর কারন হতে পারে।তিনি বলেন সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করে তাহলে এই শিল্প বিলপ্তী হতে পারে। অপরদিকে উপজেলা গোবরা চাদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুরের রঞ্জু আহমেদ বলেন আমার খামারীতে ১৭-১৮ হাজার মুরগী উৎপাদন হয়।মুরগীর বাচ্চা,খাবার,ঔষুধ,লেবার,বিদ্যতু, তুষ সহ প্রতি কেজি মুরগী উৎপাদনে ১১০-১১২ টাকা খরচ হয় কিন্তু যার বর্তমান বাজার মুল্য ৯০-৯২ টাকা,অর্থাৎ প্রতি কেজি তে ১০-১২ টাকা লোকসান।তিনি বলেন বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা করে লোকসান হচ্ছে।রঞ্জু আহমেদ বলেন বিদেশে রপ্তানি ব্যবস্থা নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে চলমান মুরগীর বাজার পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হোক।তা না হলে একদিন এই বানিজ্য প্রতিষ্ঠান ধরে রাখা দুস্কর হয়ে পড়বে। এবিষয়ে কুমারখালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসারের সাথে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তথ্য জানতে ব্যর্থ হয়।

















