একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার কারণ কী?

0
63

প্রায় প্রতিদিনই বিশ্বের কোথাও না কোথাও হানা দিচ্ছে সন্ত্রাস। কখনো ছোরা, কখনো চাপাতি কিংবা বন্দুক, আবার কখনো বোমা থেকে শুরু করে ১৯ টনের ট্রাক সন্ত্রাসীদের হাতিয়ার হয়ে উঠছে। কখনো আতশবাজির প্রদর্শনীতে, কখনো উৎসবে, কখনো ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁয়, আবার কখনো ট্রেনে কিংবা উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটছে।
গত এক পক্ষকালের কম সময়ে ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাগুলোয় ৮৫ বছর বয়সী এক ধর্মযাজক থেকে শুরু করে চার বছর বয়সী এক শিশু পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এসব হামলার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একদিকে যেমন আদর্শিক সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে, অন্যদিকে অসন্তোষ, ক্ষোভ, মানসিক বৈকল্যের কারণে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
আপাতদৃশ্যে বেশির ভাগ হামলারই প্যারিসে গত জানুয়ারির ও নভেম্বরের হামলা কিংবা গত মার্চের ব্রাসেলসে হামলার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলেও সবগুলোই ছিল পরিকল্পিত। এসব হামলা জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএসের) পক্ষে সিরিয়া বা ইরাকে লড়াই করে ইউরোপে প্রত্যাবর্তন করা সুসংগঠিত জঙ্গিরাই পরিচালনা করেছে। এতেই পরিষ্কার বোঝা যায়, তাঁরা একটি সন্ত্রাসী মিশন নিয়েই মাঠে নেমেছে।
১৪ জুলাই ফ্রান্সের নিস শহরে এবং পরের সপ্তাহে জার্মানির বুর্জবার্গ, মিউনিখ, রেউতলিঙ্গেন ও আনসবাখে এবং গত সোমবার জাপানের টোকিওতে ও ফ্রান্সের নরম্যান্ডি শহরে হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
নরম্যান্ডিতে গির্জায় হামলা চালিয়ে ধর্মযাজকের গলা কেটে হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই সন্ত্রাসীর একজনের নাম আদেল কারমিশে (১৯), যিনি গত বছর দুই দফায় সিরিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
ফ্রান্সের নিসে বাস্তিল দিবসের উৎসবে জনতার ওপর ভাড়া করা ট্রাক চালিয়ে দিয়ে ৮৪ জনকে হত্যা করা মোহাম্মদ লাউইজ-বুলেলকে (৩১) যদিও আইএস নিজেদের ‘সেনা’ বলে ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু আইনজীবীরা জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে হামলাকারীর যৌক্তিক সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাননি বলে জানিয়েছেন। তবে তিউনিসিয়ায় বুলেলের অশান্ত শৈশবের কথা জানা গেছে, যখন তাঁকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আইএসের রক্তাক্ত আদর্শ শুধু তাঁকে হত্যাকাণ্ড চালাতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
একইভাবে জার্মানির বাভারিয়ায় আনসবাখে গত রোববার স্থানীয় সময় রাতে হামলা চালানো সিরীয় অভিবাসী মোহাম্মদ দালিলের (২৭) কাণ্ডেও আইএস দায় স্বীকার করে নিয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোনে পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি জঙ্গি সংগঠনটির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে জার্মানির ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করছেন। কিন্তু দালিলেরও মানসিক রোগের ইতিহাস রয়েছে। বুর্জবার্গে গত সোমবার ট্রেনে ছোরা নিয়ে হামলা চালানো অভিবাসীর ঘরে আইএসের পতাকা পেয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে উঠছে, হামলার ঘটনাগুলোর পেছনে কি কোনো সমন্বিত কারণ কাজ করছে? হতে পারে একটা কারণ থাকতে পারে। তবে প্রতিটি হামলারই গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণে এটা নিশ্চিত যে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তিরাই বেশির ভাগ হামলা চালিয়েছে। আর তারাই জঙ্গিবাদের টোপ।

LEAVE A REPLY