বরগুনায় বিআরটিসি গাড়ীর যাত্রীদের দূর্ভোগ !

0
100

মেহেদী হাসান, বরগুনা থেকেঃ দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা-বরিশাল রুটে চলছে লক্কর ঝক্কর মার্কা মান্ধাতা আমলের বিআরটিসি গাড়ী। যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বিভিন্ন মহল থেকে পাহাড় পরিমান অভিযোগ দেওয়া সত্বেও আজ পর্যন্ত এর কোন সুরাহা হয়নি। একাধিক যাত্রীরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন বরগুনা থেকে বরিশাল পৌঁছে কাজ সেরে আবার সঠিক সময়ে বরগুনা ফিরবেন এমন অনেক যাত্রীরা আছেন। কিন্তু গাড়ীর ইঞ্জিন খারাপ থাকায় বরগুনা থেকে বরিশাল যেতে পথিমধ্যে ৪-৫ বার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

যার দরুন অনেক যাত্রীরাই তাদের নির্ধারিত কাজ সেরে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। এ ছাড়া গাড়ীর উপরের ছাঁদ ফুটো। বর্ষা মৌসূমে গাড়ীর ভিতরে ঝর ঝর করে বর্ষার পানি পড়ে। উপায় না পেয়ে যাত্রীদের গাড়ীর ভিতরেই ছাঁতা খুলে বসতে হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে যার কাছে ছাতা না থাকে তাকে ভিজতে ভিজতেই বরগুনা অথবা বরিশাল পৌঁছতে হয়। দেখা গেছে, গাড়ীর অনেক জানালায় গ্লাস নেই।

ভাঙ্গা-চোরা গ্লাস যাওবা আছে তা আবার দড়ি দিয়ে বাঁধা। সিট ভাঙ্গার দরুন যাত্রীদের সিটে বসতে গেলে পা ভাঙতে হয়। গাড়ীর টায়ারের অবস্থা খুবই নাজুক। প্রত্যেকটি টায়ারে গেটিস মারা। পথিমধ্যে প্রায়ই চাকা পাঙ্চার হয়।। গাড়ী চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন থেকে সারা পথে মবিল পড়তে থাকে বলে জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিসির একজন ষ্টাফ। বরগুনা-বরিশাল রুটে ২৩/২০, ১৮/৯২ এবং ২১/৮৮ নম্বরের এই তিনটি গাড়ী চলছে বহু বছর থেকে। এই তিনটি গাড়ীরই বেহাল দশা।

বরিশাল থেকে আগত যাত্রী আমিনুর রহমান জানান, ভাই কি অবস্থায় যে বরিশাল থেকে বরগুনা পৌঁছেছি তা একমাত্র আল্লাহ্ই জানেন। বরিশাল থেকে গাড়ী ছাড়ার পরেই চলন্ত অবস্থায় দেখি আমার ছিটের পাশে গাড়ীর বেড়া ঠকঠকিয়ে নড়ছে। যে কোন মূহুর্তে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। হেলপারকে এ ঘটনা বলায় সে বললো ভাই আমরা কি করবো, এই রুটে কর্তৃপক্ষ যে গাড়ী দিবে সে গাড়ীতেই আমাদের ডিউটি করতে হবে। আপনারা উপরস্থ কর্তৃপক্ষকে বলুন এই রুটে নতুন গাড়ী দিতে। যাহোক আল্লাহ্ আল্লাহ্ করে শেষ পর্যন্ত হায়াত ছিলো বিধায় বরগুনা পৌঁছেছি। তবে, পথি মধ্যে কুলহু আল্লাহ্ থেকে যতগুলো সুরা জীবনে শিখেছি তা সব একবার নয় বহুবার পড়েছি।

ছাদ ফুটো, ইঞ্জিন খারাপ, চাকায় গেটিস মারা, গ্লাস এবং সিট ভাঙ্গা গাড়ীর এ দুরাবস্থার ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশাল ডিপো ম্যানেজার কামরুজ্জামান সকল অভিযোগ অস্বিকার করে তিনি বলেন, বরগুনাতে যে গাড়ীগুলো চলছে তা খুব ভালো গাড়ী। আর এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কোন ষ্টাফ দেয়নি। প্রতিদিন এই তিনটি গাড়ী থেকে কত টাকা সরকারী খাতে জমা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নুরুজ্জামান জানান, বরগুনা-বরিশাল এই রুটের বিআরটিসি গাড়ীর অবস্থা একদম নাজুক। এ ব্যাপারে আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে লিখিতভাবে জানাবো, যাতে করে অবিলম্বে বরগুনায় নতুন গাড়ীর ব্যবস্থা করা হয়।

LEAVE A REPLY