কবিতাঃ অাবেগ
রচনাঃ মোফাজ্জল হোসেন
মানুষ কি অাবেগী না হয়ে পারে?
একজন মানুষও কি অাছে-
অাবেগের কাছে হারেনি,
অাবেগী হয়ে কাঁদেনি,
অাবেগ- বিবেকের স্নায়ুযুদ্ধে কষ্ট পায়নি,
অাবেগ ঠকায়নি?
অাবেগ বড্ড অভিমানী-
নরম মনকে করে পাথর,
স্মিত হাসিকে করে অশ্রুহীন কান্না,
সদুত্তরের চেয়ে নিরবতার মিথ্যে সান্ত্বনা।
প্রেয়সীর জন্য রাত জাগা-
কবিতার শেষ পংক্তিতে লেখা নাম,
গানের অন্তঃমিলের ছন্দের ধারা,
অাবেগী মনের ভালবাসার তারা।
কেউ কি কখনো পেরেছে অাবেগকে শাসাতে?
একটুও কি হয়নি বিচরণ অাবেগের সীমান্তে?
অাবেগ; তুমি জিতেছ বারবার-
না চাওয়াতে,
ধনী-গরীবের বৈষম্যে,
ভাললাগার পবিত্র মনমন্দিরে।
তুমি হাসাও, কাঁদাও, তুমিই উড়াও অলীক স্বপ্নের ফানুস,
তোমার অাদতেই বাস্তবতা শিখে মানুষ।
যেই তোমার কারণে প্রেয়সীকে ভালবাসতাম-
সেই তোমার জাগ্রত অাচরণে তাকে মন থেকে ঘৃণা করি।
নঞ্ প্রাপ্তির মিশ্রিত হাহাকার নেই অামার,
মাঝরাতে চোখ ভিজে না অার,
ভুলে গেছি কে ছিল কবেকার,
শান্তির মিছিলে স্লোগান ধরেছি বদলাবার।
বয়স পঁচিশের পর অার অাবেগ থাকতে নেই-
বিবেকের দরজায় সদা পাহাড়া,
একাকী পথচলার মনধারা,
অথবা শুধু কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছার সীমাহীন চেষ্টা,
সফল হওয়ার শেষ রাস্তা।
শুধু জাগ্রত অাবেগ চাই-
প্রেমিক ও প্রেমিকার
লেখক কিংবা পাঠকের,
শিল্পী অথবা শ্রোতার,
না খেয়ে থাকা ঐ পথশিশুর,
দেশসেবক অথবা জনগণের,
রাস্তার ঠিকাদার কিংবা ডাক্তারের।
অাবেগ থাকুক; অতি অাবেগী হয়ো না-
অর্ধেক বিবেক- অর্ধেক অাবেগ; জীবন কখনো ঠকে না।




















