মিজানুর রহমান নয়ন,কুমারখালী প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ পুলিশের এক গৌরবময় উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম এস আই মিলটন।নিজের মেধা,শ্রম,কর্মদক্ষতা আর অদম্য সাহসীকতা দ্বারা সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ,মাদক প্রতিরোধ ও নির্মূল করে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান বিপিএম,পিপিএম ( সেবা) এর কাছ থেকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে পর পর সপ্তম বারের মত ছিনিয়ে নিয়েছে জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসারের পুরস্কার।
একজন সৎ,দায়িত্ববান,কর্তব্য পরায়ন,নির্ভীক পুলিশ অফিসার হিসেবে ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া জেলা সহ সারা বাংলাদেশে পুলিশ ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে।তবুও যেন খুশি নন এই শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার এস আই মিলটন।
প্রতিটি মানুষ যেন নিজ নিজ কর্মস্থলে সুখী নয়,রঙিন পৃথিবীর চারিপাশেন রঙিন মঞ্চ যেন প্রতিনিয়ত চিন্তার জগতে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াই।কখনও বা নির্ঘুম রাতের সাথী হয়ে যায়।
সেই নির্ঘম রাতের যাত্রী হয়ে প্রতিটি মানুষের না বলা অনেক কথাই থেকে যায়।
অন্যান্য আট দশ জন মানুষের মত ছোট বেলাটা তার কাছে ছিল স্বপ্নের মত।
ছোটবেলা থেকেই গৃহপালিত পশু পাখির প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা।তাইতো গ্রাম্য পরিবেশে সারাদিন গরু আর ছাগল নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন তিন।ছাগল খাওয়ানো,গরুর জন্য ঘাস কাটা আর বিকালে ক্রিকেট খেলা এযেন প্রতিদিনের রুটিন।দুরন্ত চঞ্চল ক্রীড়ামনা ব্যক্তিত্ব হলেও কখনও পড়ালেখায় ফাকি দেননি তিনি।নিয়মিত স্কুলে যাওয়া আর সব শ্রেনীতে ১ম হওয়া এযেন নেশা হয়ে তাড়া করত সব সময়। ফলে অদম্য চেষ্টা আর পড়াশোনাই গভীর মনোযোগী হওয়াই ৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি লাভ করেছিলেন।বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও রসায়ন বিষয়ের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বানিজ্য বিভাগে নবম শ্রেনী পড়াশোনা শুরু করে।স্যার,বাবা,মা সহ সবাই বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার জন্য অনেক আলাপ সালাপ করলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন।
বানিজ্য বিভাগ নিয়ে মনে মনে সিদ্ধান্ত করেছিলেন সি এ করবেন।ফলে পড়ালেখা আরো জোরে শুরু করলেন।
২০০২ সালে ইতিহাসের সব চেয়ে কঠিন অংকের প্রশ্ন হলেও ঢাকা বোর্ড হতে বানিজ্য বিভাগ থেকে রাজবাড়ী জেলার সেরা ফলাফল নিয়ে পাশ করতে তার তেমন কষ্ট করতে হয়নি।
২০০৪ সালে যশোর বোর্ড থেকে কলেজ প্রথম হয়ে ইচ্ছা ছিল তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার। কিন্তু শত চেষ্টা করেও চান্স হলনা। স্বপ্ন ভেংগে অসহায়ত্ব হলেও তাকে কেউ আটকাতে পারেনি।
অবশেষে দেশের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অন্যতম জগন্নাথ বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হয় এবং সেখান থেকে ২০১০ সালে বিবিএ এবং ২০১২ এমবিএ শেষ করে সি এ করার জন্য এবং বিসিএস এর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন তিনি।
জনপ্রিয় ক্যারিয়ার ব্যাংকার হতে মরিয়া হয়ে উঠছিলেন,কিন্তু টিভিতে প্রচুর সি আই ডি দেখার নেশা তাকে পুলিশ হবার বাসনা জাগান।তাই বন্ধু ও পারিপার্শ্বিক মানুষ গুলো বলত তুই পুলিশ হলে ভাল হত। তাই কবে কখন কিভাবে পুলিশ হয়ে গেলাম নিজেও বুঝে উঠতে পারিনী।
এর মাঝে তিনি আই এফ আই সি ব্যাংকে চাকরী পেলেন।হঠাত করেই বন্ধুদের প্রলোভনে এস আই পদে পরীক্ষা দেওয়া ও ২০১৩ সালে পুলিশের চাকরীতে যোগদান করা।
তখনও যেন পরিবারের নানা গুঞ্জন।দাদা আর মায়ের ইচ্ছা ব্যাংকে চাকরি আর বাবার এক কথা এস আই পদে চাকরী করতে হবে।অনেক দ্বিধা দন্ধ নিয়ে পুলিশের চাকরীতে যোগ দিলাম।
দীর্ঘ এক বছর শারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষন শেষ করে কুষ্টিয়া জেলাতে যোগ দিলেন তিনি।তারপর কুমারখালি থানাতে প্রবেশনার হিসাবে যোগ দেওয়া ও কনফার্ম হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানাতে যোগদান করে ০৬ মাস পর আবার কুমারখালি থানায় বদলী হওয়া।
এস আই মিলটন রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলা(সাবেক পাংশা)বিশই সাওরাইল গ্রামে ১৯৮৬ সালে জন্ম গ্রহন করেন।বাবা মনোজ কুমার দেব দাস,পেশায় ব্যবসায়ী ও মা ডলি রানী দেব দাস জেলা পরিষদের সদস্য।
পরিবারে মা বাবা আর চার ভাই,সৃষ্টিকর্তা বঞ্চিত করেছেন বোনের আদর থেকে।
বড় ভাই মলয় ব্যবসায়ী। সেজ ভাই লিপটন দিপ্ত টিভির রিপোর্টার, আর ছোট ভাই দ্বীপ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ৭ম সেমিষ্টার এর ছাত্র।
বর্তমানে এস আই মিলটন কুষ্টিয়া কুমারখালী থানায় সততার সহিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতে গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সহায়তা করা এবং যেখানেই দায়িত্ব পান সেখানেই মাদক মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।

















