মে দিবসের প্রতিপাদ্য ও বাস্তবতা

লেখক; মো: তারিকুল ইসলাম তারিক

0
114

“শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই” মহান মে দিবসের এ প্রতিপাদ্যের আলোকে শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
খুব সুন্দর ও প্রশংসার দাবিদার আজকের এই প্রতিপাদ্য ।শ্রম ও কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়ের কিছু উদ্যোগ প্রশংসনীয় । কিন্তু এগুলো শুধু খাতাকলমে এবং প্রভুদের দেখানোর জন্য নাতো !
আজকের প্রতিপাদ্যে বেশ কিছু সরল শিকারোক্তি আছে – শ্রমিক মালিক ভাই ভাই এবং সোনার বাংলা আজও আমাদের স্বপ্ন !
– আমরা অসুখী এবং অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ !
কিন্তু কেন ?
প্রকৃত পক্ষে শ্রমিকের সার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্ত্রণালয় আন্তরিক কিনা তাতে শ্রমিক শ্রেনির যথেষ্ট সন্দেহ আছে । নুন্যতম মুজুরি আট হাজার টাকা ! আপনারা বেঁধে দিয়েছেন । দেশের কত ভাগ প্রতিষ্ঠান এটা বাস্তবায়ন করেছে একবার কি খোঁজ নিয়ে দাখেছেন ? মেনে নিলাম শতভাগ প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন হয়েছে । তাহলে একজন শ্রমিকের দৈনিক আয় ২৬৬ টাকা । একটা পরিবারের দৈনিক খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান , শিক্ষা ওচিকিৎসা এই মৌলিক অধিকার গুলো নিশ্চিত করতে ২৬৬ টাকার অসহায় আত্নসমার্পন করা ছাড়া আর কোন উপায় দেখিনা । অথচ অনেক মালিকই এরকম অনেক ২৬৬০ টাকা দৈনিক কুকুরের বিষ্ঠা পরিস্কার করতে ব্যায় করেন !

সরকারী চাকুরেদের শতভাগ বেতন বৃদ্ধি নিশ্চয় সাধুবাদ পাবার যোগ্য । কিন্তু বাজার মুল্য , এর পার্শপতিক্রিয়া এবং শ্রমিকের জীবন যাত্রার মানের নিম্নমুখ একবার ও কি আমাদের চিন্তার বিষয় হয়েছে ? হয়নি । কথায় বলে পেটে থাকলে পিঠে সয় । পেটে না দিয়ে শুধু পিটের বোঝা ভারি হচ্ছে আবার তাদের কাছ থেকে বেশি উৎপাদনশীলতা আশা করছি !
দেশি,বিদেশী ওবহুমাত্রিক অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো অমার দেশ থেকে বিনামুল্যে শ্রম নিচ্ছে ! আট ঘন্টা কাজের কথা থাকলেও ১২ থেকে ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ছাড়া শুধু মাত্র প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা ও চাকরী বাঁচানোর তাগিদে । দেখার কেও নেয় ! শ্রমিক মালিক কিভাবে ভাই ভাই হবে ?

শিশু শ্রম নিয়ে আমরা অনেক কথা শুনি। অনেকেই লাইভে টেবিল চাপড়ে ভাঙ্গেন । অথচ খোঁজ নিয়ে দেখবেন ১৬ বছরের গৃহপরিচারিকার শরীরে এখনো গরম খুন্তির ছেকা দেয়া গদগদে ঘা ! শিশু শ্রম স্পর্ষ কাতর । বিনা শ্রমে কেও একমুঠো অন্ন দিবেনা । কিন্ত সুনির্দিষ্ট কাযর্করী কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে পথ শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এখনো আমাদের স্বপ্ন ।

আমাদের সোনার সন্তান যারা মা , মাতৃভুমি, পরিবার পরিজন, ভালবাসার মানুষ ছেড়ে সাত সমুদ্র পাড়িদিয়ে রোদ ,বৃষ্টি , ঝড় মাথায় নিয়ে শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতি ভীত মজবুত করছেন । তাদের যাওয়া আসার পথটুকু আমরা কতটুকু মসৃণ করতে পেরেছি ? বিমান বন্দরের মত একটা অতি নিরাপদ স্থানে তারা অপমান, অপদস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন । যত তাদের শরীরে শক্তি থাকবে ততদিন তাদের আহার জুটবে ! তাদের ভবিষৎ কি? শারীরিক ভাবে অপারগ হলে দেশে এসে তারা কি করবে ?

মে দিবস একটা দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নারেখে , মন্চে, টকশোর টেবিলে ঝড় নাতুলে প্রকৃত শ্রমিক বান্ধব কার্যকরী কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে বিনা পারিশ্রমে শ্রম বন্ধ করুন, শ্রমিক মালিক ভাই ভাই না হলেও যাতে দুরত্ব কমে ।নুন্যতম মুজুরি পুননির্ধারন করে শতভাগ প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন । শ্রমিকের মৌলিক অধিকার নূন্যতম জীবন যাত্রার মান নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহন করুন । শিশু শ্রম বন্ধ করে শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করুন ।
মন্ত্রনালয় ও সরকারের পাশা পাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা এবং আন্তরিকতা জরুরি ।

লেখক:
মো: তারিকুল ইসলাম তারিক
 একজন বেসরকারী শ্রমিক

LEAVE A REPLY