কবিতা “মুখোশের ছলনা”

0
79

কবিতাঃ মুখোশের ছলনা
রচনাঃ মতিলাল দাস

কয়েকদিন আগে বাড়ির ফেরার জন্য বসের অপেক্ষায় ছিলাম;
তখন এক ভিখারী বুড়িকে সেখানে দেখলাম।
গায়ে তার ছেঁড়া,নোংরা একখানি কাপড়;
আর ঠিক করে হাঁটতে পারছেনা পা তার কাঁপছে থরথর্।

এক হাতে ধরে আছে একটা বেতের লাঠি,
আর এক হাতে আছে সহস্র ছিদ্রের এক খানা বাটি।
বাটিটাকে হাত দিয়ে নাড়িয়ে নাড়িয়ে সবার সামনে ধরছে;
কেউ একটা দুটো টাকা দিচ্ছে,আর বাকিরা সরে যাচ্ছে।

আমার অবুজ হৃদয় বুড়ির অবস্থা দেখে কষ্ট পেল;
আর আমার অজান্তেই চোখের কোনে জল বিন্দু দেখা দিল।
আমি এগিয়ে গিয়ে তাকে বই কেনা থেকে দিলাম একশো টাকা;
পিছনে ঘুরে দেখে সবাই তাকিয়ে আছে,যেন আমি বোকা।

আমি তাদের দৃষ্টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম,
খানিটা সময় পর,বুড়িটাকে এক গলিতে ঢুকে যেতে দেখলাম।
সেদিন ধর্মঘট বা কোন করন বসত গাড়ি বেশী ছিল না;
যে গুলো আসছিল সে গুলো কোথাও ফাঁকা ছিল না।

অগত্যা দুই ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হল;
বেশী সময় দাঁড়িয়ে থাকার করনে পা ব্যাথা করতে লাগল।
চারিদিকে দেখছিলাম,হঠাৎ চোখে পড়ে এক মাঝ বয়স্ক মেয়েকে,
সে যেন আড়ালে সরে গেল আমাকে দেখে।

আমার মনে হল কিছু সময় আগে দেখা ভিখারি বুড়িটা;
দেখা মাত্রই তার পিছনে আমি জোরে দিলাম হাঁটা।
আমাকে তার পিছনে দেখে,সে এক গলির মধ্যে লুকিয়ে যায়;
পরাজিত হয়ে,পূর্বের স্থানে এলে এক ভদ্রলোক পাশে এসে দাঁড়িয়।

সে হেসে বলে,তোমার চোখের সকল প্রশ্নের উওর জানি;
আরো বলে তুমি যা ভাবছ তা ঠিক,সে বুড়িটা ঐ মেয়ে যে বহুরূপী একখানি।

LEAVE A REPLY